খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলা গানের ভাণ্ডারে যাঁরা অমলিন সুর ও কথার দীপ্তি ছড়িয়ে গেছেন, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ।
গানই ছিল তাঁর জীবন, তাঁর স্বপ্ন, তাঁর অস্তিত্ব।
১৯৩৪ সালের ২ মে হাওড়ায় জন্ম। শিল্পধর্মী পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই নাটক, সাহিত্য ও সঙ্গীতকলার প্রতি ছিল তাঁর টান। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর সাহিত্য ও সঙ্গীতজগতের সঙ্গে যুক্ত হন গভীরভাবে।
ষাট ও সত্তরের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ে তাঁর লেখা গান বাংলা গানের ভাণ্ডারকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, গীতা দত্ত, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, হৈমন্তী শুক্লা, শ্যামল মিত্র, ভূপেন হাজরিকা, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুন্ধতী হোম চৌধুরীসহ অসংখ্য গুণী শিল্পী তাঁর লেখা গান কণ্ঠে ধারণ করেছেন।
“কে প্রথম কাছে এসেছি” (লতা–মান্নাদে, শঙ্খবেলা, ১৯৬৬)
“আজ মন চেয়েছে” (লতা, শঙ্খবেলা)
“আমি শ্রী শ্রী ভজ হরি মান্না” (প্রথম কদম ফুল, ১৯৬৯)
— এসব গান আজও শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, সময়কে অতিক্রম করে বেঁচে আছে।
কিন্তু বুকের ভেতরে চাপা থেকে গেল কত অভিমান, কত না-বলা কষ্ট।
১৯৯৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, হুগলি নদীতে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে চিরতরে ইতি টানেন নিজের জীবনে।
আজও তাঁর লেখা গান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন না, তিনি বেঁচে থাকেন সৃষ্টির মধ্যে।
বাংলা গানের এই অনন্য গীতিকারের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।