খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, জমিদারের উপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেবো না।’
এই বক্তব্যকে সংগঠন বিনয় পরিপন্থি মনে করেছে এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, বক্তব্যের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মো. আলা উদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি জেলা কর্মপরিষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিরাজুল ইসলামকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক। এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি সংঘর্ষে আহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়, যাতে কেউ এ ঘটনাকে পুঁজি করে নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের ওপর। আমরা এই জায়গার মালিক, তাই অন্যায় কিছু মেনে নেবো না। আমাদের সম্মান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তবে আমরা জনগণ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
সভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে শুক্রবার রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বর, এ এফ রহমান হল ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা স্লোগান দেন— ‘চবি নিয়ে জমিদারি, চলবে না, চলবে না’, ‘চাটুকারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘সন্ত্রাসীদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না।’
খবরওয়ালা/শরিফ