খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগমকে (৪৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত কবিরাজ মোবারক হোসেনকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর ধর্মপুর এলাকা থেকে মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং বাবুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কবিরাজি করতেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান।
তিনি জানান, নিহত সুমাইয়ার মা তাহমিনা বেগম নিয়মিত ঝাড়ফুকের জন্য ওই মসজিদের খতিব ইলিয়াস হুজুরের কাছে যেতেন। সেখানে পরিচয় হয় কবিরাজ মোবারকের সঙ্গে। সেই সূত্রে গত এক মাস ধরে তাহমিনা বেগমের বাসায় যাতায়াত করতেন তিনি। গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সুমাইয়ার ওপর থেকে জিন তাড়াতে বাসায় ডাকা হয় মোবারককে।
একপর্যায়ে মোবারক সুমাইয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন মা তাহমিনা বেগম টের পেয়ে মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোবারক। এরপর সুমাইয়াকেও কক্ষে আটকে রেখে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসায় থাকা চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
পুলিশ সুপার জানান, পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। ঢাকায় পালানোর সময় সোমবার রাতে ধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডে মোবারক একাই জড়িত। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন সুজানগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম ও তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন। এ ঘটনায় নিহত তাহমিনার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
খবরওয়ালা/এন