খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ধাপে ধাপে ইরানের ভেতরে সম্পন্ন হবে এবং বিশেষ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে খনন করে এসব উপাদান সংগ্রহ করা হবে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়েছে, তা তিনি “পারমাণবিক ধূলি” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তা দ্রুত উদ্ধার করা হবে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তবে ইরান এ ধরনের কোনো সমঝোতার কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়টি ইরানের জন্য কখনোই কোনো বিকল্প নয়। তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূমি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও দেশটির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম কেবলমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, সম্ভাব্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তাঁর মতে, আলোচনা আরও কয়েক দফা চলতে পারে এবং সপ্তাহান্তেও এ বিষয়ে বৈঠক হতে পারে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি ২০ বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম চুক্তির বিষয়ে ছড়ানো খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নৌ-অবরোধ আরোপের চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইরানের অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মূল পার্থক্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের অবস্থান |
|---|---|---|
| ইউরেনিয়াম স্থানান্তর | উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রস্তাব | সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি |
| পারমাণবিক কর্মসূচি | অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা | কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্য |
| আলোচনা | সমঝোতার সম্ভাবনা ও চলমান আলোচনা | স্থানান্তর ইস্যু আলোচনার বাইরে |
| নৌ-অবরোধ | সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত | অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ |
ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকৃত ৯০০ পাউন্ডের বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ও জটিল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।