খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, বাঙালি সাহিত্য জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন।
১৮৭৬ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে।
শৈশব ও কৈশোর কাটে ভাগলপুরে মাতুলালয়ে। সেখানেই তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রথম হাতেখড়ি। দেবানন্দপুরের হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল ও ভাগলপুরের দুর্গাচরণ এম ই স্কুলে পড়াশোনার পর টি.এন. জুবিলি কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। এফ.এ ক্লাসে ভর্তি হলেও দারিদ্র্যের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত থেকে যায়।
কর্মজীবনে তিনি বনেলি স্টেটে সেটেলমেন্ট অফিসারের সহকারী, কলকাতা হাইকোর্টে অনুবাদক, বার্মা রেলওয়ের হিসাব দপ্তরে কেরানি হিসেবে কাজ করেছেন। তবে সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রকৃত আশ্রয়।
সাহিত্যসাধনা
‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাহিত্যজগতে আবির্ভাব ঘটেছিল তাঁর। এরপর একে একে তিনি উপহার দিয়েছেন—
পরিণীতা,পল্লীসমাজ,দেবদাস,চরিত্রহীন,শ্রীকান্ত,দত্তা,গৃহদাহ,দেনা-পাওনা,পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন
এছাড়া লিখেছেন অসংখ্য গল্প, প্রবন্ধ (নারীর মূল্য, স্বদেশ ও সাহিত্য) এবং স্মরণীয় চিত্রকর্ম ‘মহাশ্বেতা’।
তাঁর ‘পথের দাবী’ উপন্যাস বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের কারণে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন কুন্তলীন পুরস্কার, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট সম্মাননা।
১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কথাশিল্পী।
মধ্যবিত্ত বাঙালির সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, সংগ্রাম ও মানবিকতার অমর কাহিনি তিনি তুলে এনেছেন অবিস্মরণীয় ভাষাশৈলীতে।
আজ তাঁর ১৪৯তম জন্মজয়ন্তীতে আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি বাঙালির হৃদয়ের সেই চিরকালের প্রিয় লেখককে।