খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কয়েকটি চক্র দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ ছোট ছোট প্রবেশপথ ব্যবহার করে অস্ত্র নিয়ে আসছে। গত তিন মাসে এই চোরাচালানের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
এই সময়ে শুধুমাত্র বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে অর্ধশতাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং সহস্রাধিক রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যাই বেশি।
বিজিবির তথ্য অনুসারে, গত তিন মাসে ১৬টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ২টি রিভলভার, ২টি এসএমজি, ৫টি রাইফেল, ১৬টি দেশীয় বন্দুক, ৩টি শর্টগান, ৩টি মর্টার শেল, ৮টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২৭টি অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র, ২১টি ম্যাগাজিন এবং ১,০০৩ রাউন্ড বিভিন্ন অস্ত্রের গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজিবি ৩৮টি পিস্তল, ৫টি এসএমজি, ১৮টি গ্রেনেড, ৮টি রাইফেল, ৬টি রিভলভার, ৫২টি সব ধরনের বন্দুক, ৮,৮৫৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৪৫টি ম্যাগাজিন, ৪টি মর্টার শেল, ৪১টি ককটেল, ১০.৪৪ কেজি গানপাউডার এবং ২৩৩টি ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করে।
বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের শেষ কয়েক মাসে অস্ত্র পাচারকারীরা বেশি সক্রিয় হয়েছে। কয়েকটি চক্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসছে। এসব অস্ত্র সমতল ও পাহাড়ের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র আনা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “গত আগস্ট মাস থেকে অস্ত্র পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন সীমান্তে পাচারকারীরা ধরাও পড়ছে, এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। এসব অস্ত্র দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হতে পারে।”
অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র পাচারের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লা এবং কক্সবাজার সীমান্তগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সীমান্তে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে অস্ত্র আনা হয়, বিশেষ করে ছোট আকারের অস্ত্রগুলো।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড় ও বনাঞ্চল দিয়ে প্রবেশের পাশাপাশি সাগরপথেও অস্ত্র নিয়ে আসা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রের চোরাচালান রুখতে বিজিবি গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং অভিযান পরিচালনা উভয়ই বাড়িয়েছে বলে বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে।
এদিকে, বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অসংখ্য নৌযান রহস্যজনকভাবে মিয়ানমারের জলসীমা অতিক্রম করে যাতায়াত করছে। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, মাদক এবং চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮ লাখের বেশি ইয়াবা, প্রায় ১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ ৮০ কোটি টাকার বেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এই সময়ে সীমান্ত দিয়ে আসা ২২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।”
সেক্টর কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উদ্ধার করা এসব অস্ত্র মিয়ানমার থেকে এসেছে। দেশটির রাখাইন রাজ্য আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এই সশস্ত্র গোষ্ঠী মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে।
অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির তথ্য আহ্বান সোমবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্ত এলাকার অস্ত্র পাচারকারীদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি বিজিবি আহ্বান জানিয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন