আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
অবশেষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে চলেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই ঘোষণা দেবেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আজ রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা আসতে পারে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রবিবার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার বিকেলে একটি বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যদি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে যুক্তরাজ্য তাদের নীতি পরিবর্তন করবে। এটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন, কারণ এতদিন ধরে দেশটির সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে বলে আসছিল যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কেবল শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলতে পারে এমন সময়েই আসবে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলি সরকার, বন্দিদের পরিবার এবং কিছু কনজারভেটিভ নেতা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে এমন পদক্ষেপ “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করবে”। তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়াটা একটি নৈতিক দায়িত্ব।
যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে খারাপ হয়েছে। তারা ক্ষুধা ও সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে স্বীকৃতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার মতে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সর্বশেষ স্থল অভিযান ছিল “বিধ্বংসী”, যা লাখো মানুষকে পালাতে বাধ্য করেছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগকে “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে, ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকেও স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করছে। তিনি বিশেষ করে বিতর্কিত ই১ বসতি প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি কার্যকর হলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই মাসের শুরুতে লন্ডনে স্টারমারের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্রিটিশ স্বীকৃতির অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান চান। তবে দ্য টেলিগ্রাফে এক লেখায় তিনি যুক্তি দিয়েছেন, বন্দিদের মুক্তি না দিয়ে এখনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার সমান।”
পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ে ইতিমধ্যেই গত বছর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যদিও ফিলিস্তিনের কোনো নির্ধারিত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই— ফলে এই স্বীকৃতি মূলত প্রতীকী।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া লেবার পার্টির বহুদিনের একটি দাবি। দলের বামপন্থী এমপিদের চাপের মুখে স্টারমারকে ইসরায়েলের প্রতি কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। জুলাইয়ের আগে তার ভাষণ দেওয়ার আগেই লেবার দলের অর্ধেকেরও বেশি এমপি ফিলিস্তিনকে তাৎক্ষণিক স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছিলেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন