খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৪ সালের পর্যটন মৌসুম। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রস্তুতি শুরু হলেও দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট সেন্টমার্টিনে এ বিষয়ে এখনও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর সীমিত সময়ে পর্যটক আসায় আয় তুলতে পারেননি। তাই এবারের মৌসুমে হোটেল-রিসোর্ট সংস্কার বা পর্যটকদের সেবায় কর্মী রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তারা উদ্বিগ্ন, এবার পর্যটকরা কতদিন আসবেন বা কতজন আসবেন তা এখনও জানা যায়নি।
দ্বীপবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে হোটেল, রিসোর্ট ও শুটকি-কাঁচা মাছ ব্যবসায়ীসহ পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার শুরু করে। কিন্তু গত বছর সরকারি পরিবেশ-প্রতিবেশ বিধিনিষেধের কারণে মাত্র দু’মাস পর্যটক আসতে পারায় এবারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।
সেন্টমার্টিন মারমেইড রিসোর্টের দায়িত্বশীল তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়টা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। হোটেল-রিসোর্টের সংস্কার, রঙ-গোছাইসহ নানা প্রস্তুতি থাকত। এবার সেটা নেই, অনিশ্চয়তা সব জায়গায় বিরাজ করছে।’
সেন্টমার্টিন হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিবলী আজম কোরেশি বলেন, “কবে পর্যটক আসবেন, জাহাজ চলাচল কবে শুরু হবে বা কতজন আসবে—এই বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নেই। গত বছর দৈনিক ২ হাজার পর্যটক আসতে পেরেছিল; এবারে সেটা কত থাকবে, কিছু জানা যায়নি।”
ব্যবসায়ী আবদুল মালেক দাবি করেন, “সরকার যদি প্রতিদিন ৫ হাজার পর্যটককে চার-পাঁচ মাস দ্বীপে আসার সুযোগ দেয়, তাহলে দ্বীপের মানুষের দুঃখ অনেকটা কমে যাবে।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, ‘দ্বীপের দু-তৃতীয়াংশ মানুষ পর্যটন নির্ভর। গত বছর মাত্র দুই মাস পর্যটক আসায় পুরো বছরের আয় পুরোপুরি হয়নি। এবারের মৌসুমে পর্যাপ্ত সময় ও পর্যটক সংখ্যা নিশ্চিত হলে দ্বীপবাসীর কষ্ট অনেকটা হ্রাস পাবে।’
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ‘আমি নতুন এসেছি। গত বছরের সিদ্ধান্ত মিডিয়ার মাধ্যমে জানলাম। এবারের সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। তবে না এলে গত বছরের মতোই পর্যটক পরিবহন হবে। পর্যটনসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন ও পর্যটক সেবায় প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, কক্সবাজারে পর্যটন জোনের হোটেলগুলো ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, সারাবছরই সৈকত ও পর্যটন এলাকায় পুলিশি টহল থাকবে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘পর্যটন শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। আশা করি এবারের মৌসুম সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্বকীয়তা ফিরিয়ে আনবে এবং পর্যটক সংখ্যা বাড়াবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড