আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই খবর জানানো হয়েছে। বৈঠকটি প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট স্থায়ী হয়।
ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের কারণে প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্ব হয়। বৈঠকের পর প্রকাশিত ছবিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এবং ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিনিময় করতে দেখা যায়। একটি গ্রুপ ফটোতে ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ বুড়ো আঙুল তুলে হাসিমুখে পোজ দেন।
বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন মহান নেতা’ হোয়াইট হাউসে আসছেন এবং তিনি ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে ‘একজন মহান, মহান ব্যক্তি’ এবং প্রধানমন্ত্রীকেও ‘তা-ই’ বলে অভিহিত করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের প্রধানদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এর আগে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
এই বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। দুই নেতার মধ্যে ‘পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে উষ্ণ হচ্ছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে মিত্র হিসেবে দেখেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়েছে। ভারতীয়দের জন্য ভিসা কঠোর করা, উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
বর্তমানে ভারতীয় পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, এবং রাশিয়া থেকে তেল না কিনলে আরও শুল্কের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পণ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে এবং সরকার শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে। বৈঠকে শুল্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ট্রাম্পের সঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে যোগ দিয়ে গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও মার্কিন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে শেহবাজ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয় এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সংযোগ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন