খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গাইবান্ধায় জামিনে বেরিয়ে এসে ধর্ষণের শিকার এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর ও তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল আজিজ খোকনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলার সাঘাটা উপজেলার উল্লা ভরতখালি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাদশা আলম।
অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ খোকন গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার উত্তর উল্লা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ চার বছর ধরে আব্দুল আজিজ বিয়ের প্রলোভনে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে সে নারীর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় ৯ সেপ্টেম্বর একটি মামলা হয়।
ওই মামলায় জামিনে বের হয়ে মামলাটি তুলে নিতে আসামি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাদীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেন। একপর্যায়ে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আব্দুল আজিজ খোকন ওই মেয়েকে বিয়ে করবেন বলে তাঁর বাসায় আসতে বলেন। ভিকটিম তাঁর কথামতো গাইবান্ধার সাঘাটা উল্লা বাজারে আব্দুল আজিজ খোকনের ওষুধের দোকানে উপস্থিত হন।
এ সময় আব্দুল আজিজ খোকন ও তাঁর সহযোগীরা ভিকটিমকে বেধড়ক মারধর করে মাথার চুল কেটে দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে ভিকটিম আজ রাতে গাইবান্ধার সাঘাটা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
ভিকটিম বলেন, ‘আব্দুল আজিজ খোকন আমাকে দীর্ঘদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর সে আপত্তিকর কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। পরে আমি থানায় মামলা করলে সে আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। আমাকে আবার কৌশলে ডেকে এনে খোকনসহ তার লোকজন চুল কেটে দেয়। এ ব্যাপারে আমি সাঘাটা থানায় এজাহার দায়ের করেছি।’
এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ খোকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তিনি ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে আছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
সাঘাটা থানার ওসি মো. বাদশা আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআর