খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য নাম মাতঙ্গিনী হাজরা। তিনি ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল প্রতীক।
ব্রিটিশ শাসনের দীর্ঘ অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে নির্ভীক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই নারী বিপ্লবী। মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
১৮৭০ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মাতঙ্গিনী হাজরা। তাঁর পিতা ঠাকুরদাস মাইতি ছিলেন এক দরিদ্র কৃষক। অল্প বয়সেই বিয়ে হয় ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে। কিন্তু ১৮ বছর বয়সেই স্বামীকে হারিয়ে তিনি নিঃসন্তান ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।
দারিদ্র্য ও একাকিত্ব তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় তাঁকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। বয়সের ভার সত্ত্বেও তিনি যোগ দেন আন্দোলনের মিছিলে।
১৯৩২ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় পতাকা হাতে মেদিনীপুরের এক শোভাযাত্রায় ৬২ বছর বয়সে অংশ নেন তিনি। একে একে বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। দু’বার ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন। দ্বিতীয়বার তাঁকে বহরমপুর জেলে ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
দেশমাতৃকার মুক্তির স্বপ্নে লড়াইয়ের পাশাপাশি অসুস্থ ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মাতঙ্গিনী। কলেরা ও বসন্তে আক্রান্ত মানুষদের সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। এই মানবিকতার জন্যই গ্রামের মানুষ তাঁকে স্নেহভরে ডাকতেন — “গান্ধীবুড়ি”।
১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় তিনি বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ইংরেজ সেনারা নির্বিচারে গুলি চালায়। চারদিকে মিছিল ছত্রভঙ্গ হলেও মাতঙ্গিনী নির্ভীক পায়ে এগিয়ে যান জাতীয় পতাকা হাতে।
শত্রুর গুলিতে তিনি লুটিয়ে পড়েন, কিন্তু পতাকাটি তখনও তাঁর হাতে অটলভাবে ধরা ছিল।
মৃত্যুর মধ্য দিয়েও তিনি হয়ে উঠলেন স্বাধীনতার অগ্নিশিখা।
মাতঙ্গিনী হাজরা-
দেশপ্রেম, সাহস আর আত্মত্যাগের চিরন্তন প্রেরণা।
শ্রদ্ধাঞ্জলী।
খবরওয়ালা/এমএজেড