খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং অনলাইন বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। দুটি অ্যাপ— টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার করে এই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে গত বুধবার যে ২৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁদের মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যক্তি এই দুটি অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেজন্য যোগাযোগ ঠেকাতে আপাতত রাতে অ্যাপ দুটির (টেলিগ্রাম ও বোটিম) ব্যবহারে গতি কমিয়ে দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা করছে সরকার।
জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দুই অ্যাপ বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ বিষয় তুলে ধরা হয়।
টেলিগ্রাম ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ রুশ বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে বোটিম কথা বলা, ভিডিও কল ও অর্থ আদান–প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ। বোটিমের প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে।
কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার যে ২৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুঠোফোন জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে দেড় শ জনের বেশি টেলিগ্রাম ও বোটিম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও সভায় যোগ দিতেন।
বৈঠকে দুটি সংস্থার প্রতিনিধি জানান, সারা দেশে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তফসিল ঘোষণার পর তাঁরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারেন। এসব আলোচনা শেষে টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫টি সিম থাকতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে। এখন একজনের নামে ১০টি সিম নেওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, বিগত ১৩ মাসে ৪৪ হাজার ৪৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩২ হাজার ৩৭১ জন জামিন পেয়েছেন। অর্থাৎ মোট প্রায় ৭৩ শতাংশ আসামির জামিন হয়েছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তারের পর দ্রুত সময়ে কীভাবে জামিন পাচ্ছেন, তা নিয়ে কোর কমিটির সভায় আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, সভায় অংশ নেওয়া দুজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাঁদের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জেলা আইনজীবী সমিতি ও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করছেন।
পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে, তাঁদের জামিনের বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা হবে। একই সঙ্গে সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সতর্ক করা হবে, যাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামিনের দিকটি গুরুত্বসহকারে দেখা যায়।
জামিনের বিষয়ে আরেকটি মত রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, জামিন পাওয়া মানুষের অধিকার। তবে কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অপরাধে জড়ালে সেই তথ্যগুলো সঠিকভাবে আদালতের নজরে আনাটা গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোতে অনেক সাধারণ মানুষকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা জামিন পাবেন। সঠিকভাবে মামলা দায়ের ও তদন্ত করা জরুরি।
খবরওয়ালা/এন