খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে দুই মাস হলো যুক্ত হয়েছেন তাসমিত আফিয়াতস আর্নি। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে আজ নতুন জার্সি পরে ভারতের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ ফুটবল দল। আর সেই জার্সির নকশা করেছেন আর্নি।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর আগমনকে কেন্দ্র করে নতুন হাওয়া লেগেছে আমাদের ফুটবলে। ফেডারেশনও চাইছিল আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্সি খেলোয়াড়দের গায়ে চাপাতে।
বাংলাদেশের জার্সি মানেই লাল-সবুজের খেলা। তবে প্রথাগত সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে নতুন জার্সির নকশা করেছেন আর্নি, যেখানে ফুটবল এবং দেশের ইতিহাসের একটি সমন্বিত রূপের চিত্র মেলে ধরেছেন তিনি। জার্সিজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর প্রবাহ। দেশের মানচিত্রে যেভাবে নদী দেখা যায়, জার্সির বুকে সেভাবেই আঁকা হয়েছে নদী। জার্সিতে জ্যামিতিক ফর্মে ব্যবহৃত হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলার মোটিফ। জার্সির কাঁধ ও হাতের অংশে হীরার মতো ফর্মে শাপলা ফুলকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জার্সির পেছনে ইংরেজিতে টাইপোগ্রাফির স্টাইলে লেখা ‘বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের প্রতিটি অক্ষর নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে মানচিত্র।
‘মিনিমাল ডিজাইন’-এ তৈরি এই জার্সির আরেকটি উপাদান হলো ‘ভিক্টরি’, যেখানে ‘ওয়াই’ চিহ্নটি জয়ের প্রতীক হিসেবে দুই হাত উঁচিয়ে উদযাপনের ভঙ্গিতে রাখা হয়েছে। দেশের নদীর প্রবাহকে ইংরেজি শব্দ ভিক্টরির ওয়াই আকারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন এই ধারায়ই নদী বয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান দিয়ে তৈরি জার্সির কাপড়ের মধ্যে এমবোস করা হয়েছে। ফ্যাব্রিকটি এমনভাবে করা হয়েছে, যেন ঘাম টেনে নেয়। গায়ে যেন কোনোভাবেই অস্বস্তি না লাগে। অ্যাওয়ে জার্সিটি লাল রঙের হলেও হোম জার্সিটি সবুজ রঙের। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
আর্নি বলেন, ‘লাল জার্সি পরা খেলোয়াড়রা সবুজ মাঠে দাঁড়িয়ে থাকলে পাখির চোখে পুরো দৃশ্যটি বাংলাদেশের পতাকার মতোই দেখায়।’
নতুন জার্সি পেয়ে দারুণ খুশি ফুটবলাররাও। ‘জার্সিটি গায়ে চড়ালে মনে হয়, যেন আমি বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে মাঠে নামছি।’ জার্সিটি পরার পর হামজা চৌধুরী এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন আর্নি।
খবরওয়ালা/এফএস