খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একটি প্যান্ডেল-ঘেরা বাড়িতে চলছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন। বাজছিল বিবাহের সঙ্গীত, এবং আমন্ত্রিত অনেকেই টেবিলে বসে ভোজ সারছিলেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইতি খাতুনকে জমকালোভাবে বিয়ে করতে এসেছিলেন বরও। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অভিযানের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিবাহ অনুষ্ঠানের চিত্র পাল্টে যায়।
বাল্যবিয়েতে অংশ নেওয়ার অপরাধে বর বাহারুল ইসলামকে (২৫) দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক, ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ। বুধবার সন্ধ্যায় নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই বাল্যবিবাহটি থামানো হয়। ছাত্রী ইতি খাতুন ওই গ্রামের শামসুল হকের কন্যা।
নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে বুধবার (০১ অক্টোবর) কনের সাজে সজ্জিত করা হয়েছিল।
বাল্যবিবাহের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে ইতি জানিয়েছে, তার অনেক দূর পর্যন্ত পড়াশোনা করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। কিন্তু বাবা-মা এবং প্রতিবেশীদের চাপের মুখে তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল। সময়মতো এসে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করার জন্য সে ইউএনওর কাছে কৃতজ্ঞ। এখন সে আবার বিদ্যালয়ে যেতে পারবে এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারবে ভেবে আনন্দিত।
বাল্যবিয়ে করতে আসা বর বাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের নবির উদ্দিনের পুত্র। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মেয়েকে দেখতে ভালো হওয়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কনের বাবা শামসুল তা মানেননি।”
নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, দুরন্ত ও প্রাণবন্ত স্বভাবের মেয়ে ইতি শিক্ষার্থী হিসেবে খুবই মেধাবী। শুধু লেখাপড়াই নয়, সে খেলাধুলাতেও পারদর্শী। অথচ পরিবারের সদস্যরা তার পড়াশোনা বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি বাল্যবিবাহটি বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। বিয়ে বন্ধ হওয়া এবং বরের কারাদণ্ড ও জরিমানায় তিনিও সন্তুষ্ট। বরের জেল-জরিমানার ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলোচিত হবে, যাতে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে নারী শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তিনি বিয়ের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় বরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেয়ের পরিবারকেও সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অল্প বয়সে মা হওয়া। মা হতে গিয়ে অনেক সময় জরায়ু ফেটে যাওয়াসহ জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। জেনেশুনে অথবা না জেনে পরিবারগুলো কিশোরীদের ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং এর কুফল নিয়ে তিনি বিদ্যালয়গুলোতে প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াবেন।
কিশোরীরা নিজেদের বাল্যবিবাহ রুখে দিলে পুরস্কৃতও করা হবে বলে তিনি জানান।
খবরওয়ালা/টিএসএন