খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আভিগদর লাইবারম্যান শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন সুক্কুত উৎসবের সময় ইসরায়েলিদের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, গত জুনের যুদ্ধের পর ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং ‘আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড তাদের নির্দেশনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা লাইবারম্যানের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লাইবারম্যান লিখেছেন, ‘যারা ভাবছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়ে গেছে, তারা ভুল করছে এবং অন্যদেরও ভুল পথে চালাচ্ছে। ইরানিরা প্রতিদিন নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তারা আবারও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় কাজ শুরু করেছে।’
লাইবারম্যান আরও বলেন, ‘এ কারণে বড় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা আবারও চালু করেছে। এবার মনে হচ্ছে, ইরানিরা আমাদের চমকে দিতে চাইছে।’
সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া সাত দিনব্যাপী সুক্কুত উৎসব সামনে রেখে তিনি ইসরায়েলিদের সতর্কতার সঙ্গে উদ্যাপনের আহ্বান জানান। তাঁর পরামর্শ, ‘পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। তবে সাবধান থাকুন এবং আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকুন।’ পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, ‘এই সরকারকে ভরসা করা যায় না। তাদের ক্ষতি আমরা না সামাল দেওয়া পর্যন্ত নিজেদের ও আইডিএফের ওপরই নির্ভর করতে হবে।’
ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাঁর এই পোস্টকে ‘অদ্ভুত ও বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চ্যানেল ১৩কে দেওয়া এক মন্তব্যে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, লাইবারম্যানের এ ধরনের বক্তব্য ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। এতে ইরান ধরে নিতে পারে, ইসরায়েল তাদের আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং তারা আগে থেকেই পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
ওয়াই-নেট জানিয়েছে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে লাইবারম্যানের মন্তব্যের জবাব দিচ্ছে না। কারণ, তাঁর বক্তব্যে কোনো ভিত্তি নেই এবং গুরুত্ব দেওয়াও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে তারা।
ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লাইবারম্যান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর মতে, এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। জুলাইতে তিনি বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর এবং ইসরায়েলের উচিত আগে থেকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান প্রাণঘাতী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার দুই দিন পর, ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যদিও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ইসরায়েল ধ্বংসের শপথ নিয়েছে, দেশটি দাবি করছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না। তবে ইতিমধ্যে ইরান এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের চেয়ে বেশি এবং অস্ত্র-মানের পর্যায়ে পৌঁছাতে মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ