খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে ‘জিজ্ঞাসাবাদের নামে’ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন আহত ব্যক্তি। তাদের দাবি, ভুয়া তথ্য দিয়ে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে সরকারি তালিকায় নাম দিয়েছে-এমন অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে স্বীকার করেছেন।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানিয়েছেন, এখন থেকে আর কাউকে ফাউন্ডেশনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না; প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীদের একজন মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ২৭ মে তাকে ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে শাহিদ নামে এক ব্যক্তি তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন এবং ‘ভুয়া আহত’ হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেন। অফিসের শেষ প্রান্তের একটি কক্ষে চলে এই নির্যাতন। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি অনুরোধ করেছিলাম, আমাকে পুলিশে দিন, মারবেন না। তবু তারা থামেনি।’ পরে এক রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে ফাউন্ডেশনের পেছনের গেট দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আহত হন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, “ঢাকা মেডিকেলে আমার অপারেশন হয়। সুস্থ হওয়ার পর শেখ হাসিনাসহ স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করি। আমার সব কাগজপত্র ও ভিডিওপ্রমাণ আছে।’ তার অভিযোগ, ‘আমার গেজেট নাম্বার ২৩০৬, আমি সরকারি স্বীকৃত আহত। অথচ ফাউন্ডেশনে আমাকে ভুয়া প্রমাণ করতে নির্যাতন করা হয়েছে।’
আরেক ভুক্তভোগী বুলবুল শিকদার ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও অভিযোগ তুলেছেন, গত ২০ মার্চ তাদের ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সাবিনা বলেন, ‘আমার স্বামীকে অফিসের ভেতরে নিয়ে যায়, আমি বাইরে অপেক্ষা করি। অনেকক্ষণ পর ফোন দিলে একজন বলে, ‘আপনার স্বামীকে জামাই আদর করা হচ্ছে।’ পরে আমি গিয়ে দেখি তাকে পেছনের কক্ষে আটক রাখা হয়েছে। সেখানে ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন কর্মকর্তা সাগর তাকে পাইপ দিয়ে মারছেন।’
তিনি আরও বলেন, “আমার চুল ধরে আমাকেও নির্যাতন করা হয়, স্বীকার করাতে চায় যে আমার স্বামী-ছেলে ভুয়া আহত। পরে বাসায় ফিরে স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, এখন তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।” সাবিনা অভিযোগ করেন, পরে ফাউন্ডেশনের আরেক কর্মকর্তা প্রিন্স তাকে সতর্ক করে বলেন, “ঘটনার কথা কাউকে বললে আরও বিপদ হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহীদ বলেন, ‘ভুয়া আহতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো শুধু নিরাপত্তার জন্য। অনেক সময় প্রকৃত আহতরা তেড়ে আসতেন। এজন্য তাদের আলাদা কক্ষে নেওয়া হতো, যেখানে সিসিটিভিও ছিল। যদি কারও সঙ্গে রূঢ় আচরণ হয়ে থাকে, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি দাবি করেন, “জাহাঙ্গীরের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনই হয়েছিল টর্চার সেল ও গোপন কক্ষের বিরুদ্ধে। এখানে এমন কক্ষের অস্তিত্ব নেই। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর নির্দেশ দিয়েছি—ভুয়া আহত শনাক্ত হলে সরাসরি পুলিশে সোপর্দ করা হবে, জিজ্ঞাসাবাদ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মানবাধিকারের পক্ষের সংগঠন। তবে কেউ যদি সত্যিই নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড