খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটের তীব্র প্রভাব এবং বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জে গত এক বছরে দেশে ১৮৫টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। জ্বালানিসংকটে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় গত দুই মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ।
গতকাল রবিবার রাজধানীর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)।
সংগঠনটি বলেছে, ক্রমাগত কারখানা বন্ধ হওয়া এবং উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা দেশের ওপর থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা এই শিল্পের জন্য অশনিসংকেত।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবিএর সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, বলেন, ‘শিল্প টিকিয়ে রাখার মূল উপাদান হলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ। কিন্তু আমরা তা পাচ্ছি না। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছি না।
এর ফলে বিদেশি ক্রেতারা আমাদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। তাঁরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে ভবিষ্যতে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জও খাতটিকে আরো বেশি চাপে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্ক এবং বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে পণ্যের চাহিদা এখনো আশানুরূপ বাড়েনি।
ক্রেতারাও তাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিজিবিএ নেতারা জানান, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক মেলাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। কিন্তু সেখানেও ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পোশাক মেলা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে শুধু শিল্প উদ্যোক্তারাই অংশ নিচ্ছেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে ক্রেতাদের কাছে দেশের সক্ষমতা সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য উৎপাদক ও বায়িং হাউসগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শিল্পকে এই গভীর সংকট থেকে বের করে আনতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ পিন্টু, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুর রহমান ফরহাদ এবং মহাসচিব জাকির হোসেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড