খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
ভারতের কেরালার তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে গত তিন সপ্তাহ ধরে আটকে আছে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি স্টেলথ ফাইটার। মার্কিন লকহিড মার্টিন নির্মিত এই ১১ কোটি ডলারের যুদ্ধবিমানটি বর্তমানে ছয় সদস্যের ব্রিটিশ দলের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। এর নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংবেদনশীলতার কারণে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ভারত মহাসাগরে নৌমহড়ার সময় খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। এটি তখন ব্রিটিশ রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসে ফিরতে পারেনি। অবতরণের পর থেকেই যুদ্ধবিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিমানের নিরাপত্তা ও মেরামত নিয়ে কাজ করছে। এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস থেকে ইঞ্জিনিয়াররা এসে বিমানটি পরীক্ষা করলেও এখনও ত্রুটি সারানো সম্ভব হয়নি। বিমানটিকে বর্তমানে বিমানবন্দরের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (MRO) হ্যাঙ্গারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এত উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি যুদ্ধবিমান কীভাবে দিনের পর দিন বিদেশের মাটিতে আটকে থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা ট্রল ও মিম দেখা যাচ্ছে। কেউ রসিকতা করে বলছেন, “এখন এই বিমানের নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত”, আবার কেউ বলছেন, “এতদিন রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকার ভাড়া হিসেবে ভারতের কোহিনূর দাবি করা উচিত।”
কেরালা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিটিশ সরকারকে বিমান পার্কিং ফি প্রদানের বিষয়ে অবগত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিদিন কয়েক হাজার ডলার পার্কিং ফি ধার্য করা হতে পারে।
মুম্বাইয়ের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. সামীর পাটিল মনে করেন, এই ঘটনা ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দল সরকারের কাছে যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত গোপনতা কীভাবে রক্ষা করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছে।
এফ-৩৫বি বিমানটি একটি ফিফথ জেনারেশন স্টেলথ জেট, যা অল্প জায়গা থেকে উড়তে এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে সক্ষম। সাধারণত এটি রণতরী থেকে পরিচালিত হয়। ভারতের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই যুদ্ধবিমান এখন শুধু কৌশলগত গুরুত্বই নয়, সামাজিক আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএস