খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘন্টাধ্বনি বাজতেই সরব হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিএনপি শিগগিরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে, আর জামায়াত ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এবারের নির্বাচনে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এমন এক শ্রেণির প্রার্থীদের উপস্থিতি—একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতার সন্তানরাও প্রার্থী হতে যাচ্ছেন।
ঢাকায় মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান
জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচন করবেন। ২০১৬ সালে গুম হওয়া আরমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান। তার পিতা মীর কাসেম আলী ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তবে ভোটে অংশ নেননি।
পাবনায় মাওলানা নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান মোমেন
একইভাবে পাবনা-১ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। কিন্তু দেশে এখনো ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসনটি জামায়াতের দখলে ছিল এবং নিজামী নিজেই ওই সময় সংসদ সদস্য ছিলেন।
পিরোজপুরে সাঈদীর দুই পুত্র মাসুদ ও শামীম
পিরোজপুরের দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই পুত্র। মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ এবং শামীম সাঈদী পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচন করবেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার আশা ব্যক্ত করে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আসনটি মূলত আল্লামা সাঈদীর আসন। বাবাকে অনুসরণ করেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। বাবার প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা, আশা করি ভোটেও সেটা প্রভাব ফেলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত আমাকে ও আমার ভাইকে মনোনীত করেছে। জিয়ানগর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মানুষ আমার সততা ও কর্মনিষ্ঠা প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণ জানে আমি দুর্নীতিতে জড়াইনি।’
জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ‘বাবার আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা সবাই সৎ ও যোগ্য। তারা নিজেরাও গত ১৫ বছর নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণেই নয়, বরং কাজ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তাদের প্রার্থী করা হয়েছে।’
বিএনপির প্রার্থী ফয়সাল আলিম ও হুম্মাম চৌধুরী
বিএনপি থেকেও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের সন্তানরা নির্বাচনে আসছেন। জয়পুরহাট-১ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা আবদুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলিম। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম বলেন, ‘ফয়সাল আলিমের বাবা দলের সিনিয়র নেতা ছিলেন। তাঁর ত্যাগ দল বিবেচনা করবে।’
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির আরেক দণ্ডপ্রাপ্ত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম বিন কাদের চৌধুরী। তিনি নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২০১৫ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ছয়বার সংসদ সদস্য ছিলেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আলোচনায় আসছেন এই প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা। যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত পিতাদের উত্তরাধিকার নিয়ে তারা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, এখন তা নিয়েই আগ্রহ ভোটারদের।
খবরওয়ালা/এন