নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
আজ প্রকাশিত হলো উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন বোর্ডে পাসের হার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। ২০২টি প্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি। ফলাফলেিএমন বিপর্যয় দেখে শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকরা হতাশ। তারা খুঁজছে বিপর্যয়ের কারণ।
ফলাফলে বিশ্লেষণে দেখা গেছে এ বছর বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ফলাফল করেছে। এছাড়াও ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে ৩টি কারণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
গণিত ও ইংরেজিতে কঠিন পরীক্ষা
পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষা বিশেষত গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে কঠিন ছিল। শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রশ্নপত্রে জটিলতা ও বিশ্লেষণত্মাক সমস্যা বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। অনেক শিক্ষার্থী জানাচ্ছেন, সময় সীমার মধ্যে প্রশ্ন সমাধান করা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সুবিধা হ্রাস
সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ড ও সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা কেন্দ্রে নজরদারি ও প্রতারণা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে খাতায় নম্বর বাড়ানো বা অন্য অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। তবে এতে পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পূর্বের তুলনায় কম নম্বর পেয়েছেন, যা পাসের হার কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্কুলগুলোতে পাশের হার বৃদ্ধি হ্রাস
আগের বছরগুলোতে কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাশের হার বাড়ানোর জন্য অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফলে হেরফের করা হতো। এবার সেই প্রবণতা হ্রাস পাওয়ায় প্রকৃত শিক্ষাগত মান প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বেড়েছে এবং পাসের হার কমেছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবিটে কাজ করা সিনিয়র সাংবাদিক নিজামুল হক ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে লিখেন, ‘এবারের এইচএসসি ফলাফল আগের তুলনায় বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখার মান, প্রস্তুতি এবং দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। আগে অনেক সময় ফলাফল অতিরিক্ত ভালো দেখাত। কিন্তু তা সবসময় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতার প্রতিফলন ছিল না। এবারের ফলাফল সেই “মেকআপ করা” সাফল্যকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এবারের ফলাফল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ও প্রস্তুতির একটি প্রতিফলন। কঠিন প্রশ্নপত্র, অনৈতিক সুবিধা হ্রাস ও স্কুল পর্যায়ে চাপের ফলে প্রকৃত শিক্ষাগত সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে।
এক শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, “যেসব শিক্ষার্থী কঠিন গণিত ও ইংরেজি প্রশ্নে প্রস্তুত ছিল, তারাই ভালো ফল করেছে। এটি শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের জ্ঞান যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে।”
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল যে “বিপর্যয়” হিসেবে ধরা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে শিক্ষার মান যাচাই, অনৈতিক সুবিধা হ্রাস ও কঠিন প্রশ্নপত্রের সমন্বয়। ফলাফলের এই বাস্তব চিত্র শিক্ষকদের, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং শিক্ষার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড