খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
একই সঙ্গে গত ১২ অক্টোবর আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, ইউনেসকোর মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশ কখনোই জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়নি। বরং ২৪-এর গণ–আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষায় বরাদ্দ আরও কমিয়েছে। তারা অভিযোগ করে, ১১টি সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও শিক্ষা সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন করা হয়নি।
বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক সতর্ক করে বলেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো—বিশেষ করে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়—যদি শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব না নেয়, তবে নতুন রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।
সংগঠনটি মনে করে, আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীদের তিনটি দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য। তিনটি দাবি হলো, মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ, উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি শিক্ষকদের যেখানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়, সেখানে বেসরকারি শিক্ষকেরা মাত্র এক হাজার টাকা পান—যা শিক্ষকদের প্রতি অবমাননা ও বৈষম্য। এই পরিস্থিতিকে “জাতির জন্য লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
সংগঠনটির ভাষায়, “এমন বৈষম্যের কারণে শিক্ষকরা পূর্ণ মনোযোগে শিক্ষাদান করতে পারছেন না; জীবিকার তাগিদে প্রাইভেট পড়ানো, কোচিং কিংবা দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন।”
দাবিগুলোর মধ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে , চলতি অর্থবছরে বাড়িভাড়া ১০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং আগামী অর্থবছরে আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর নিশ্চয়তা, চিকিৎসা ভাতা ন্যূনতম দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ, উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা, আগামী অর্থবছর থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ এবং পর্যায়ক্রমে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো।
এ ছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীদের ওপর পুলিশি হামলার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
খবরওয়ালা/আশ