অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চকমির্জাপুর গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে এবং সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. সুমী খাতুন (২২) তিন মাস আগে পার্শ্ববর্তী রোকনপুর দামরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে ও সিরাজগঞ্জ বিএ কলেজের শিক্ষার্থী সজীব হাসানের সঙ্গে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন।
প্রাথমিকভাবে পরিবারের অমতে বিয়ে করায় সজীবের পরিবার আপত্তি জানিয়েছিল। তবে আত্মীয়স্বজনের মধ্যস্থতায় উভয় পরিবার পরে তাঁদের বিয়ে মেনে নেয়।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে সুমী খাতুন তাঁর স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি যান। বিকেল ৪টার দিকে সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে সুমীর পরিবারকে জানানো হয়, সুমী খাতুন ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু রাত ৮টার দিকে বগুড়ার শেরপুর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সুমী খাতুনের পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সুমীর বাবা রেজাউল করিম বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম সাজিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, সন্ধ্যায় সুমী খাতুন নামের এক রোগীকে কয়েকজন লোক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর শেরপুর থানার পুলিশ লাশটি তাদের হেফাজতে নেয়।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন মাসুদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে সুমী খাতুনের লাশ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। তবে লাশ নিয়ে আসার সময় লাশের সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে গেছে।