খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার আগুনে বোলিং এবং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-১ সমতা বিরাজ করছে, যা আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ম্যাচটিকে অঘোষিত ফাইনালে রূপান্তর করেছে।
টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে শুরু থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেসার নাহিদ রানা গতির ঝড়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপকে লণ্ডভণ্ড করে দেন। নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লু করে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। এরপর উইল ইয়ংকেও প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান নাহিদ। কিউই ওপেনার নিক কেলি এক প্রান্ত আগলে রেখে ১০২ বলে ৮৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায়।
নাহিদ রানা তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার শিকার করা পাঁচটি উইকেটের প্রতিটি বলই ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৪১ কিলোমিটারের বেশি গতির। শরীফুল ইসলাম ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন এবং সৌম্য সরকার একটি করে উইকেট নেন।
১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসান ও দীর্ঘ বিরতি পর দলে ফেরা সৌম্য সরকারকে দ্রুত হারিয়ে বিপদে পড়ে। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ১২০ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। তানজিদ ৫৮ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। জেইডেন লেনক্সের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের জয় সহজ করে দিয়ে যান।
অন্যদিকে, নাজমুল হোসেন শান্ত দীর্ঘ ১৩ ইনিংস পর হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। তিনি ৫০ রান করার পর পায়ের মাংসপেশিতে টান (Cramp) লাগায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয় অবিচ্ছিন্ন থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। হৃদয় ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিভাগ | বিস্তারিত তথ্য |
| নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ | ১৯৮/১০ (৪৮.৪ ওভার) |
| বাংলাদেশের সংগ্রহ | ১৯৯/৪ (৩৫.৩ ওভার) |
| সেরা ব্যাটার (নিউজিল্যান্ড) | নিক কেলি (৮৩ রান, ১০২ বল) |
| সেরা ব্যাটার (বাংলাদেশ) | তানজিদ হাসান তামিম (৭৬ রান, ৫৮ বল) |
| সেরা বোলার (বাংলাদেশ) | নাহিদ রানা (৫/৩২) |
| ম্যাচ ফলাফল | বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী |
| ম্যাচসেরা | নাহিদ রানা |
সিরিজের প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট কিছুটা ব্যাটিং বান্ধব ছিল। তবে সকালের সেশনে পেসাররা অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্ট আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের ফিল্ডিং ইউনিটের পারফরম্যান্সও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে লং অনে তাওহিদ হৃদয়ের নেওয়া উইলিয়াম ও’রুর্কের ক্যাচটি ছিল দর্শনীয়। প্রথম ম্যাচে হারার পর বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালো চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
আগামী ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।