খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে এক অভাবনীয় বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই হাওর অঞ্চলের এই রাজনীতিবিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বার্তাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তার এই বিজয়কে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে নয়, বরং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনি ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু—এগুলোই স্বাধীন বাংলার অস্তিত্ব।” এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সংসদে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শের একজন অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিজয় মূলত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনতার এক স্পষ্ট রায়। দীর্ঘ নির্বাচনি প্রচারণা ও দায়িত্বের চাপে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব না হলেও, তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, “সংসদে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক অটল প্রদীপ জ্বলবে—আপনাদের মর্যাদা, আস্থা ও ত্যাগকে কখনোই ক্ষুণ্ণ হতে দেব না।”
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এই নির্বাচনি লড়াই ছিল মূলত আদর্শিক লড়াই। নিচে নির্বাচনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আসন | কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) |
| বিজয়ী প্রার্থী | অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (বিএনপি) |
| পরাজিত প্রার্থী | রোকন রেজা শেখ (জামায়াতে ইসলামী) |
| বিজয়ের ব্যবধান | বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ (বেসরকারিভাবে) |
| রাজনৈতিক আদর্শ | স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কেন্দ্রিক |
| প্রধান অঙ্গীকার | সংসদে জনমানুষের মর্যাদা রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা |
বিশাল এই বিজয়ের আনন্দ উদযাপন করলেও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের মনে এক গভীর ক্ষত ও আফসোস রয়ে গেছে। তিনি জানিয়েছেন, তার একজন কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তার বিজয়ের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার জয়টা ম্লান হইছে দুইটা বাচ্চা ছেলে রেখে আমার কর্মীকে দুই বছরের জেল দিছে।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, কালো শক্তিকে সন্তুষ্ট করতেই বিনা অপরাধে এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার নির্যাতিত কর্মীর মুক্তির জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের এই জয় কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংসদে তার সরব উপস্থিতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে তার অটল অবস্থান বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়িত হওয়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।