খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে প্রেমঘটিত বিরোধ। হত্যার মূল পরিকল্পনা করেছিলেন টিউশনির ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, আর তা বাস্তবায়ন করেন তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান ও তার দুই বন্ধু ফারদিন আহমেদ ও আইলান।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও জুবায়েদের সঙ্গে পরিচয়ের পর বর্ষা তার প্রেমে পড়েন এবং মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে মাহিরকে ভুলতে না পেরে তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় বর্ষা জুবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর মাহির জানতে পারেন বর্ষা ও জুবায়েদের সম্পর্কের কথা। এর পর থেকেই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। রোববার বিকেলে বর্ষার বাসায় টিউশনে যাওয়ার পথে জুবায়েদের সঙ্গে মাহিরের দেখা হয়। তখন তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কিছু সময় পরই জুবায়েদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘জুবায়েদ তখনো মারা যায়নি। বাঁচার জন্য দোতলার দরজায় নক করলেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে সে উপরে উঠে যায়। বর্ষা তখন তিন তলায় দাঁড়িয়ে ছিল তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে। বর্ষাকে দেখে জুবায়েদ বলে, আমাকে বাঁচাও। কিন্তু বর্ষা বলে, তুমি না মরলে আমি মাহিরের হতে পারব না।’
পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই; পুরো ঘটনাটি ঘটেছে প্রেমঘটিত কারণে। তার ভাষায়, ‘বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে এটির মিল আছে।’
নিহত জুবায়েদ ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। ওইদিন রাতেই পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের বাসা থেকে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মাহিরসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।