অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
ভারতের কেরালার পাথানামথিট্টায় বুধবার সকালে একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর চার দিনের কেরালা সফরের দ্বিতীয় দিনে বিখ্যাত শবরিমালা মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে ছিলেন। সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার কেরালার নীলাক্কালে অবতরণ করার কথা ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে অবতরণের স্থান নীলাক্কাল থেকে প্রমাদমের রাজীব গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পরিবর্তন করা হয়।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে প্রমাদমের রাজীব গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি নতুন কংক্রিট হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়। কিন্তু হেলিকপ্টার অবতরণের পরপরই একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারের একটি চাকা সদ্য ঢালাই করা কংক্রিটের দুর্বল অংশে আটকে যায় এবং নিচের মাটিতে বসে ছোট একটি গর্ত তৈরি হয়। আশপাশে উপস্থিত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে ঠেলাঠেলি করে চাকা গর্ত থেকে বের করেন।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, হেলিকপ্টারটি স্থির অবস্থায় রয়েছে, চাকা আংশিকভাবে বসা অবস্থায় আর চারপাশ থেকে কয়েকজন কর্মী সেটিকে ওপরে তোলার চেষ্টা করছেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, হেলিপ্যাডের কংক্রিট পুরোপুরি শুকায়নি, ফলে চাকার নিচের অংশ বসে গিয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর, রাষ্ট্রপতি বা তাঁর সঙ্গে থাকা কেউ আহত হননি এবং সফরসূচিও ব্যাহত হয়নি। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর রাষ্ট্রপতি মুর্মু নির্ধারিত সড়কপথে পাম্বার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অবতরণের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রপতির মতো উচ্চ নিরাপত্তার ব্যক্তির সফরে কীভাবে এমন ত্রুটি ঘটল। প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি সময়ের চাপে তৈরি হেলিপ্যাডের গুণগত ত্রুটি—এ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা শেষ মুহূর্তে জায়গা বদল করি, রাতে দ্রুত হেলিপ্যাড বানানো হয়, কিন্তু কংক্রিট পুরোপুরি শক্ত হয়নি, তাই এ রকম সমস্যা হয়েছে।
প্রমাদমের বাসিন্দারা জানান, হেলিকপ্টার ঠেলে তুলতে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের ছোটাছুটি দেখে তাঁরা অবাক হয়েছেন। তবে জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে চলেছে এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি হয়নি।