অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনকে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান গ্রিপেন-ই বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে ন্যাটোর নতুন সদস্য দেশ সুইডেন। ন্যাটো জোটের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার, কোনো সদস্য রাষ্ট্র এত বড় আকারে যুদ্ধবিমান সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এই চুক্তিকে ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এর মধ্যে এই বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। যদিও কতটি বিমান সরবরাহ করা হবে, এর মূল্য বা সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী ইউক্রেন সর্বোচ্চ ১৫০টি গ্রিপেন-ই যুদ্ধবিমান পেতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, গ্রিপেন-ই একটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য যুদ্ধবিমান, যা রাস্তাঘাট বা কাঁচা রানওয়েতেও পরিচালনা করা সম্ভব। পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় এটি সম্পূর্ণ আধুনিকীকৃত, এতে রয়েছে নতুন রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। প্রতিটি বিমানে ১০টি অস্ত্র বহনের পয়েন্ট রয়েছে, যা দিয়ে আকাশ ও ভূমি উভয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আমরা ইউক্রেন ও সুইডেনের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছি। এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, ইউরোপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসন বলেন, এই বিমানগুলো ইউক্রেন, সুইডেন এবং ইউরোপ—তিনটির নিরাপত্তাই আরও শক্তিশালী করবে।
রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটির বিমানবাহিনী এখনও মূলত সোভিয়েত যুগের পুরোনো জেট ব্যবহার করছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে কিছু এফ-১৬ এবং ফরাসি মিরাজ যুদ্ধবিমান পেলেও, তা রুশ বিমানবাহিনীর আধিপত্য মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর দীর্ঘদিনের জোট-বিরোধী নীতি ত্যাগ করে ২০২৪ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয় সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন চুক্তি ইউরোপে ন্যাটো ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে।