খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে কার্তিক ১৪৩২ | ৩১ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দুটি দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অবশেষে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুরস্কে পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে আলোচনার সময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।
গত ১৯ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর আগে ১৮ অক্টোবর দোহায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়েছিল। পরে তা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে ২৫ অক্টোবর থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন।
বৈঠকে মধ্যস্থতা করে কাতার ও তুরস্ক। আলোচনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও আলোচনা শুরু হয় এবং ৩০ অক্টোবর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষই শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে দোষী পক্ষের ওপর শাস্তি আরোপ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে একটি পরবর্তী বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য তুরস্ক ও কাতার উভয় পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ মধ্যরাতের কিছু আগে ইস্তাম্বুলে এক পৃথক বিবৃতি জারি করে আলোচনার সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতের বৈঠকে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর থেকে সীমান্তে দেশ দুটি তীব্র সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হেনেছে অভিযোগ তুলে দুই দিন পর সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনারা। এরপর পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীও।
যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত সংঘাতে ২০০-রও বেশি আফগান সেনা ও ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন রুটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, দ্বিতীয় নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য নিহত হন।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া টিটিপির প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগানিস্তান সবসময়ই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক বছর আগে পাকিস্তান সরকার টিটিপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারপরও গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ
খবরওয়ালা/টিএসএন