খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
দেখতে যেন একেকটা জলজ দানব! মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশের ওজন ১৬০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এমন মাছকে তিনজন মানুষ মিলে তুলতেও বেগ পেতে হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাদু পানির মাছ। একটি পরিপক্ক মা মাছ প্রজননকালে ৬০ থেকে ৮০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে সক্ষম।
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর দুটি গবেষণায় জানা যায়, পুকুরে ১০ বছর ধরে নদীর প্রজাতির এই বিশাল পাঙাশ চাষ করা হচ্ছে। মূলত প্রজনন ক্ষমতা ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে মাছগুলো চাষ করা হচ্ছে। তবে মাছগুলোর বয়স আরও বেশি।
২০০৫ সালে দেশে প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি খামারে বিপন্নপ্রায় এই প্রজাতির পাঙাশ আনা হয়। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫০টি মাছ সংগ্রহ করে বিএফআরআই।
বিশেষ এই মাছটির দৈর্ঘ্য তিন মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং ওজনে ৩০০ কেজি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গোলাকার থুতনি, বড় মাথা, রূপালি ধূসর দেহ ও ফ্যাকাশে সাদা পেটের কারণে দেখতে এটি অনন্য।
বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আসফ উদ দৌলাহ জানান, চোয়াল ও দাঁতবিহীন এই তৃণভোজী মাছ সাধারণত পানির নিচে পাথর ও নুড়িপাথরের স্তরে থাকতে পছন্দ করে। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই মাছ থেকে কীভাবে রেণু উৎপাদন করা যায়। তবে এখনো সব মাছ প্রজননের জন্য পরিপক্ক হয়নি। পুরুষ মাছের স্পার্ম এবং স্ত্রী মাছের ডিম থাকলেই ব্রিডিং সম্ভব হবে। আমরা সেই অপেক্ষাতেই আছি।”
সম্ভাবনাময় এই মাছটির কৃত্রিম প্রজননে সফলতা অর্জন করলে চাষি পর্যায়ে পাঙাশ উৎপাদনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটতে পারে বলে আশা করছেন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা মাছটির প্রজননের চেষ্টা করছি। সফল হলে চাষি পর্যায়ে এটি আনা গেলে অল্প খরচে বড় লাভ পাওয়া যাবে। যা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রফতানি করা সম্ভব হবে।”