খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
কিছু আনন্দ থাকে, যা হারিয়ে যাওয়া প্রথমার মতো ফিরে এসে জুড়ে বসে নবনীতার সাজে; আবার কিছু বেদনাও থাকে, যা ফিরে পাওয়া সাহসের দীপ্ত তেজ নিয়ে চোখের কোণে অশ্রুবিন্দুর মতো ঝলমল করে।
তেমনি এক বেদনাময় অশ্রু, যখন অবগাহনের আনন্দ হয়ে ঝরে পড়ে রিমঝিম বৃষ্টির মতো—সেই সিক্ত বেদনার ফোঁটা-ফোঁটা বিন্দুতেই আজও যেন জীবন্ত হয়ে ওঠেন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সাহসী ছাত্রনেতা, ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু।
পাহাড়ের বুক চিরে ধেয়ে আসা এক ঝরনার উচ্ছ্বাসের মতো, সাগরের উত্তাল বুকে ফেনায়িত মেধার ঝলকে, তিনি ছাত্ররাজনীতির প্রজ্জ্বলিত আগুনকে রূপ দিয়েছিলেন প্রশান্তির পরশে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল মঞ্চে প্রেয়সীর ঠোঁটে এঁকে দিয়েছিলেন দ্রোহের চুম্বন—ব্যক্তিগত প্রেমের সীমা পেরিয়ে সমষ্টির ভালোবাসায় নিজেকে নিবেদন করেছিলেন তিনি।
সেই নিবেদনের আগুনে পুড়িয়ে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন পার্থিব বন্ধনের শিকল, তবুও ফিরে এসেছেন—আবারও, মানুষের মমতায়, প্রীতিতে, শ্রদ্ধায়, আবার কখনো ঘৃণা ও সমবেদনার বৃত্তে ঘুরে বেড়াতে।
এই মাধুকরী পরিব্রাজক, নব্বইয়ের ছাত্রআন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম—যিনি শুধু আন্দোলনের মঞ্চেই নয়, জীবনের প্রতিটি পরিসরে মেলে ধরেছিলেন সম্ভাবনার সোনালী দুয়ার।
রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা—সবখানেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর প্রাণ ছিল বহুরঙা, তাঁর যাত্রা ছিল অনন্তের দিকে।
কিন্তু হঠাৎ ধেয়ে আসা এক কালব্যাধি থামিয়ে দেয় সেই দীপ্ত পদচারণা।
২০১২ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি—এক ব্যথাভরা দিন।
যেদিন তিনি পার্থিব জীবন থেকে বিদায় নিয়ে রেখে গেলেন অগণিত স্মৃতি, অগাধ ভালোবাসা, আর এক অনন্ত দ্রোহের দিগন্ত।
আজ, জন্মদিনের প্রভাতে, মনে হয়—তিনি যেন আবার ফিরে এসেছেন আমাদের মাঝে।
বেদনার ঝিনুক থেকে রূপান্তরিত মুক্তার মতো দীপ্ত হয়ে উঠেছে তাঁর স্মৃতি।
দ্রোহ, প্রেম, সাহস আর মানবতার সুরে উদযাপিত হোক ১০ই নভেম্বর—এই সিংহপুরুষের জন্মোৎসব।
যদি বেঁচে থাকতেন, আজ তিনি পা রাখতেন জীবনের ৬২তম বসন্তে।
কিন্তু সত্যিকারের মানুষ তো মরে না—তাঁরা থাকেন, মানুষের হৃদয়ে, সময়ের গভীরে, ইতিহাসের অক্ষরে।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরস্মরণীয় –
ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু।