খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৪২ অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯ জন সুদান, আটজন সোমালিয়া, তিনজন ক্যামেরুন এবং দুজন নাইজেরিয়ার নাগরিক।
আইওএম জানিয়েছে, রাবারের তৈরি নৌকাটিতে মোট ৪৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। গত ৩ নভেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জুয়ারা থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটি ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়।
সংস্থাটি জানায়, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গত ৮ নভেম্বর লিবিয়ার উদ্ধারকারী দল সাতজনকে উদ্ধার করে।
আইওএম বলেছে, এ দুর্ঘটনা চলতি বছর ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলীয় রুটে প্রাণঘাতী অভিবাসনযাত্রার সর্বশেষ উদাহরণ। শুধু এ বছরই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে আইওএম জানায়, এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনপথ বিস্তৃত করা, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং কার্যকর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এ ঘটনায় লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা সি-ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিবিয়ার কোস্টগার্ড অন্তত ৬০টি সহিংস নৌঘটনায় জড়িত ছিল। এসব ঘটনায় তারা শরণার্থী বহনকারী নৌকায় গুলি চালিয়েছে, উদ্ধারকাজে বাধা দিয়েছে এবং সাগরে মানুষ ফেলে রেখেছে।
সম্প্রতি ইউরোপের ১৩টি উদ্ধার সংস্থা লিবিয়ার সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করেছে। তাদের অভিযোগ, লিবিয়ার কোস্টগার্ড আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-অর্থায়িত একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক, যারা অভিবাসীদের ওপর হামলা চালায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্স জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছর ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলীয় রুট দিয়ে ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন। দেশটি এখন ইউরোপমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, লিবিয়ার অভ্যন্তরে অভিবাসী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিয়মিতভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
খবরওয়ালা/টিএসএন