খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৫: মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা নগরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মেহজাবীন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বিচারক খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি শুরু হয় মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী এর বিরুদ্ধে। এই মামলায় তাদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য গত ১০ নভেম্বর ধার্য ছিল, কিন্তু তারা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর পরবর্তী শুনানি ১৮ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
মেহজাবীনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার জানান, মামলাটি সাজানো এবং অস্তিত্বহীন। তার মতে, মেহজাবীন এবং তার ভাইয়ের সঙ্গে মামলার বাদীর কোনো সম্পর্ক ছিল না, এবং তারা শুধু একটি প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার বাদী প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা আবেদন করেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মিত প্রক্রিয়া।
বাদী, আমিরুল ইসলাম, অভিযোগ করেছেন যে, মেহজাবীন তাকে একটি নতুন ব্যবসায় পার্টনার হিসেবে যুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ২৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা শুরু না করার পর, বাদী টাকা ফেরত চাওয়ায় মেহজাবীন ও তার ভাই নানা অজুহাতে তাকে দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করেন।
এদিকে, ১১ ফেব্রুয়ারি বাদী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা তাকে হাতিরঝিল রোডের একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত হয়ে মেহজাবীন এবং তার ভাই বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে জানিয়ে দেন, “তুই আর আমাদের বাসার সামনে টাকা চাইতে আসবি না। তোরে মেরে ফেলব।” এছাড়া, তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি দেন।
বাদী এই ঘটনার পর ভাটারা থানায় যান এবং সেখানে থানার কর্মকর্তারা তাকে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। এর পর, আমিরুল ইসলাম ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মেহজাবীন চৌধুরীর আইনজীবী আদালতকে জানান, তাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জামিন আবেদনকারীরা আশাবাদী, পরবর্তী তারিখে তারা আদালতে তাদের দাবি ও বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
এখন পর্যন্ত মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫।