খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস জানিয়েছে, বিহারে ‘মৃত’ বলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সাতজন ভোটারের সঙ্গে দেখা করেছেন দলের নেতা রাহুল গান্ধী। এর আগে তিনি দেশটির নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ তুলেছিলেন এবং বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপও তদারকি করেছিলেন।
কংগ্রেস জানিয়েছে, রাহুল নিজ বাসভবনে ওই সাতজন ভোটারের সঙ্গে চা খেয়ে আলোচনা করেছেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ ভোটারের হাতে চা তুলে দিচ্ছেন রাহুল এবং সকলের সঙ্গে কথা বলছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল তাদের অফিস ঘরে নিয়ে গিয়ে লম্বা টেবিলের চারপাশে বসেন। রাহুল প্রশ্ন করেন, ‘শুনলাম আপনারা আর বেঁচেই নেই।’ একজন ভোটার জানান, ‘আমাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।’ রাহুল জানতে চান, “কীভাবে জানলেন?” জবাবে তারা বলেন, “ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখলাম।”
ভিডিওতে রাম ইকবাল রায়ের ভোটার কার্ডও দেখানো হয়েছে। রাহুল প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখলেন, আপনাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আপনাদের মেরে ফেলেছে? আপনাদের কী মনে হয়, এরকম কত মানুষ আছে?” একজন ভোটার জানান, “একটা পঞ্চায়েত এলাকায় অন্তত ৫০ মানুষের এমন অবস্থা।’
তাদের মধ্যে একজন বলেন, তারা একই বুথের ভোটার নন, তিন-চারটি আলাদা বুথের ভোটার। আরও অনেকের নামও এমনভাবে বাদ পড়েছে। একজন জানান, কমিশনের কর্মীরা বাড়িতে এসে নথি চেয়েছিলেন। তিনি আধার কার্ড, ব্যাংকের পাসবইয়ের ফটো কপি ও ছবি দেখিয়েছিলেন। এরপরও তাকে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, তারা বিহারের সাবেক উপ মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কেন্দ্র রাঘোপুরের ভোটদাতা। একজন ভোটার বলেন, ‘মহাজোট মিলে বিহারকে বাঁচাক।’ রাহুল জবাব দেন, আরজেডি ও কংগ্রেস মিলে এটা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, ‘বন্ধ করে দেব, ভোট চুরি হতে দেব না।’
রাহুল গান্ধী ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, জীবনে কখনো মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এ অনুভবের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গত ৭ অগাস্ট রাহুল গান্ধী সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেন। নির্বাচন কমিশন রাহুলের কাছ থেকে নথি চেয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ না হলে দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও ভোট চুরির অভিযোগের তদন্তের জন্য রাহুলের কাছ থেকে নথিপত্র চেয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন