খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। চলমান আন্দোলনের শরিক দল, নারী, অমুসলিম, জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় ব্যক্তিত্ব, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে জামায়াতের নির্বাচনি টিম প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ করছে, যেখানে থাকছে উল্লেখযোগ্য চমক।
সম্প্রতি খুলনায় এক দলীয় সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব ইসলামপন্থিকে এক ছাতার নিচে আনতে জামায়াত প্রয়োজনে ১০০ আসন পর্যন্ত ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে ৮ দল বর্তমানে আসন ভাগাভাগির সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে প্রার্থী যে আসনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তাকে সেখানেই মনোনয়ন দেওয়া হবে—শরিক দল যেই হোক না কেন। সবাই মিলে সেই প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, ৮ দলের শরিকরা এখন আসনসংখ্যার হিসাব না করে বিজয়ী হওয়ার কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইসলামপন্থিদের ভোট হবে একটি বাক্সে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকেও তাদের লক্ষ্য রয়েছে।
সূত্র জানায়, পূর্বে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় শরিকদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে অন্তত চারজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর জামায়াতের মনোনয়ন পেতে পারেন। সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত তিনজন ভিপি এবং দুজন জিএসসহ কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধিকেও মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যারা সবাই জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা ছিলেন। এছাড়া একজন উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতার জন্যও নির্দিষ্ট আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে দলটি। জোট না হলেও কিছু আসন তাদের জন্য রাখা হতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে—মন্দির পাহারা, পূজার নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উপাসনালয় সুরক্ষা দেওয়ার কারণে। তাদের বিশ্বাস অর্জনের পর অমুসলিম সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে একজন উপজাতি প্রতিনিধিও মনোনয়ন পেতে পারেন।
এছাড়া পূর্বের প্রার্থী তালিকায় নারী প্রার্থী না থাকলেও, চূড়ান্ত তালিকায় বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত ও সুপরিচিত নারীকে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন