খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
বুধ ও বৃহস্পতিবার (১৯ ও ২০ নভেম্বর) দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান পরপর দুই দিন বৈঠক করেন। প্রথম দিন তাদের বৈঠক ছিল দ্বিপাক্ষিক স্তরে একান্ত আলোচনা, আর পরদিন তারা কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ (সিএসসি)-এর মঞ্চে অংশ নেন, যার আয়োজনকারী দেশ ছিল ভারত।
গত এক বছরে এটি ছিল দিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। কারণ গত বছরের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ভারতে সফর করেননি, এবং ভারতও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক আলোচনায় যাবে না।
কিন্তু পরপর কয়েকটি ঘটনার জের ধরে সম্প্রতি এই পরিস্থিতি বদলেছে। ভারত মনে করছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যার নিরাপত্তাগত প্রভাব ভারতে পড়তে পারে। এছাড়া নির্বাচনের দিনও এগিয়ে আসছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের অবস্থানও এই নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টিও রয়েছে।
মুখোমুখি আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করার প্রয়োজনীয়তাকে অনুভব করেই কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের দিক থেকেও আলোচনার প্রয়োজন ছিল বলেই তারা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে।
দুভাষীর সূত্র জানাচ্ছে, বৈঠকের পরিবেশ ও ফলাফল দুইই অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। ভারতের একটি শীর্ষ সরকারি সূত্র বলেছে, এই প্রথম আলোচনায় সব অস্বস্তি বা বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান আশা করা যাবে না। তবে কূটনীতির পরিভাষায় ‘বরফ গলানো’ প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, ভারতের পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক শুধুমাত্র নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সম্ভব। অজিত দোভাল এই বিষয়টি খলিলুর রহমানকে বোঝাতে সক্ষম হন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সূত্র জানাচ্ছে, খলিলুর রহমান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মর্যাদা বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ভারতবিরোধী কার্যকলাপ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের উদ্বেগও আলোচনায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ তাদের জবাবে নিশ্চিত করেছে যে ভারতের স্বার্থের বিরোধিতা করবে এমন কোনো কাজ তারা করবে না।
নির্বাচন নিয়ে দু’দেশের অবস্থানও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ জানায়, তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে এবং সংশয় নেই। ভারত অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়, যার অর্থ আওয়ামী লীগকেও ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কেন তা সম্ভব নয়, তা ব্যাখ্যা করা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস এসেছে যে নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু ও অবাধ হলে, বিজয়ী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তারা ‘এনগেজমেন্টে’ যেতে প্রস্তুত।
শেখ হাসিনার বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থান এখানে ভিন্ন। তবে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছেন যে অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়া যাবে।
দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠকের পর দুই দেশের কর্মকর্তারা একান্ত আলোচনায় বারবার জানিয়েছে, কথাবার্তার পরিণতিও অত্যন্ত ইতিবাচক।
খবরওয়ালা/টিএসএন