খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
আর্জেন্টাইন ফুটবলে বৃহস্পতিবারের দিনটি হয়ে থাকল ব্যতিক্রমী। কোনো পূর্বঘোষণা বা ইঙ্গিত ছাড়াই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ২০২৫ মৌসুমের জন্য রোজারিও সেন্ট্রালকে ‘লিগ চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করে এক রকম চমকই তৈরি করেছে। বহু বছর ধরে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাপার্টুরা ও ক্লাসুরা—এই দুটি ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টে বিভক্ত ছিল, যেখানে শিরোপা নির্ধারণ হতো পৃথক পয়েন্ট তালিকা ও মাঝে মাঝে প্লে-অফের মাধ্যমে। তবে এবার এএফএ নতুন নিয়ম চালু করে পুরো মৌসুমের সম্মিলিত পয়েন্টের ভিত্তিতে একটি অতিরিক্ত মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই নতুন নীতির ফলে দু’পর্বের মোট পয়েন্টে সবার ওপরে থাকা দলকে দেওয়া হবে “বার্ষিক লিগ চ্যাম্পিয়ন” উপাধি। ২০২৫ মৌসুমে রোজারিও সেন্ট্রাল মোট ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল। এএফএর নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বছরের ‘পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে ঘোষণা পায়।
এই অর্জনের কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন আনহেল দি মারিয়া। জাতীয় দলে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা—সবই জিতেছেন তিনি। ইউরোপে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, বেনফিকা—সব জায়গাতেই পেয়েছেন অগণিত সাফল্য। অথচ নিজ দেশের ক্লাব ফুটবলে তাঁর ছিল শূন্য অর্জন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই অপূর্ণতাই দূর হলো প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনায় শিরোপা জিতে।
ট্রফি গ্রহণের জন্য দি মারিয়া বুয়েনস আইরেসের পুয়ের্তো মাদেরোতে উপস্থিত হন। ট্রফি হাতে নিয়ে তিনি বলেন,
“আমি দারুণ খুশি। পুরো বছরের পরিশ্রমের ফল এটি। রোজারিও সেন্ট্রালের জন্য এটি বিশেষ অর্জন, আর সমর্থকদের মুখে আনন্দ দেখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আরও লিখেছেন,
“আমরা এটি পুরোপুরি প্রাপ্য ছিলাম। ক্লাবের ইতিহাসে আরেকটি তারা যোগ হলো—এটা সত্যিই গর্বের।”
২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ শেষে রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার সময়ই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার একটাই বাকি স্বপ্ন—নিজ শহরের ক্লাবের হয়ে একটি শিরোপা জেতা। তখন থেকেই তিনি দলে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেন, তরুণ খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ান এবং নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে দলকে সংগঠিত করেন। ক্লাবের ভক্তরাও জানতেন, এই মৌসুমটি হতে যাচ্ছে আলাদা—কেননা দলের নেতৃত্বে আছেন দেশের অন্যতম সেরা তারকা।
সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে রূপ নিলো। রোজারিও সেন্ট্রালের এই প্রথম বার্ষিক লিগ শিরোপা শুধু ক্লাবের জন্যই নয়, দি মারিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও বিশেষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজ শহরে ফিরে এসে শিরোপা হাতে নেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর ক্যারিয়ারের এক আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।