খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের সময়কে কেন্দ্র করে চিত্রিত করা যায়। স্বাধীনতার ঘোষণা, জনযুদ্ধ এবং বিজয়—এই তিনটির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেন। তবে এই সংগ্রামের ভিত্তি অনেক আগে থেকেই স্থাপিত হয়েছিল। ঠিক যেমন কৃষক ফসলের জন্য মাটির প্রস্তুতি, বীজ বপন এবং পরিচর্যা করেন, তেমনি বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।
ব্রিটিশ শাসনের পরে পাকিস্তান নামে গঠিত রাষ্ট্রটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে বিভক্ত করে, কিন্তু ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য উপেক্ষা করা হয়। এরপরই শুরু হয় বাঙালিদের উপর বিভিন্ন চাপ। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়, ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরের অনিচ্ছা—এসব ঘটনাই স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ বললেও তা আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেই সময় চট্টগ্রামে ৮ইবি ও ইপিআর বাহিনীর প্রতিরোধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মেজর জিয়াউর রহমান স্থানীয় নেতাদের পরামর্শে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং স্বাধীনতার বাণী ছড়িয়ে যায়।
স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে কিছু বিতর্কের মধ্যেও রয়ে গেছে, তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এর তাৎপর্য অমোঘ। দেশের মানুষ এই ঘোষণা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তাদের জাতীয় পরিচয় ও স্বাধীনতার অর্জনকে চিহ্নিত করেছেন।
খবরওয়ালা/এসজে