খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে ক্রীড়া সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেই গেমপ্লিফাই আয়োজন করে দিনব্যাপী কর্মশালা—‘ক্রীড়া সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি: খেলার গল্প, খবরে প্রাণ’। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা তরুণদের শেখা, ভাবনা ও উদ্দীপনায় সরগরম হয়ে ওঠে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য পাঁচ শতাধিক তরুণ রেজিস্ট্রেশন করলেও সুযোগ পান মাত্র ১৭০ জন। সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অনলাইনে যুক্ত হন আরও অনেক আগ্রহী শিক্ষার্থী। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সেশন শেষে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে নির্বাচিতদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
ক্রীড়া সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি, মাঠের ভেতর-বাইরের তথ্য সংগ্রহ, টিভি রিপোর্টিং, স্ক্রিপ্ট লেখা, ফিচার লেখার কৌশল, মোজো জার্নালিজম—সবকিছু নিয়েই কর্মশালায় আলোচনা হয়। প্রতিটি বক্তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি তাদের গভীর অভিজ্ঞতা ও যথেষ্ট দায়বদ্ধতা।
দুলাল মাহমুদ বলেন, “ক্রীড়া সাংবাদিকতা এখন আর ছোটখাটো বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি যত বিস্তৃত হচ্ছে, তত বেশি যোগ হচ্ছে সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ।”
নোমান মোহাম্মদ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “দুঃসাহস আছে তো? নতুন কিছু শিখতে ও করতে হলে আপনাকে ফ্রেম ভাঙতে হবে। ভালো গল্প বলাই একজন সাংবাদিককে আলাদা করে তোলে।”
বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব ভুল তথ্যের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, “টেলিভিশনে সময় কম, তাই সবসময় তথ্য বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। ভুল তথ্য প্রচার মানে বিশ্বাস হারানো।”
মোস্তফা মামুন মাঠের গুরুত্ব নিয়ে বলেন, “খেলার মাঠের গন্ধ, উত্তেজনা, দর্শকের প্রতিক্রিয়া—এসব টিভিতে দেখা যায় না। একজন সাংবাদিকের কাজ শুধু স্কোর বলা নয়, মাঠের গল্প তুলে ধরা।”
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তায় গেমপ্লিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান বলেন, “সুপারবোল থেকে বিশ্বকাপ—সর্বত্রই মানুষ সংযুক্ত থাকতে চায়। গেমপ্লিফাই সেই সংযুক্তির সেতু হতে চায়।”
আয়োজকরা জানান, কর্মশালাটি তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দিনশেষে অংশগ্রহণকারীদের চোখে মুখে ছিল নতুন স্বপ্ন—একদিন দেশের সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন।