খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় চার নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটেছে। রবিবার দিবাগত রাতে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে তাঁর যত্ন নিচ্ছেন।
বিএনপির এক সিনিয়র নেতা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “ম্যাডামের অবস্থা সংকটজনক। তবে তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন। এটি লাইফ সাপোর্ট নয়।” এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া ‘খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ আছেন এবং রবিবার রাত থেকেই এই অবস্থায় রয়েছেন। এদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে তিনি সরাসরি দেখা পাননি, তবে বাইরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ম্যাডাম এখন ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসার জন্য লড়ছেন।”
গত বুধবার থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়ার অবস্থার উন্নতি ধীরগতিতে। শনিবার তিনি সামান্য কথা বলতে সক্ষম হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামগ্রিক সংকট কাটেনি এবং আগামী কয়েকটি দিন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কিডনির কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া স্থায়ী উন্নতি আশা করা কঠিন।
চিকিৎসা ব্যবস্থায় চীনের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল সহায়তা দিচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে দেশের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা, আমেরিকার জনস হপকিনস হাসপাতালের চিকিৎসক এবং লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। মূল চিকিৎসক দল মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছাবে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতায় রয়েছে লিভারের সংকট, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়াবেটিস। রবিবার সকালেই তাঁকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিট থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
বিএনপি নেতারা বিভ্রান্তি রোধে অনুরোধ জানিয়েছেন এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী প্রচার করতে বলেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, “ম্যাডামের চিকিৎসা স্থিতিশীল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিভ্রান্তিকর।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেছে। কেউ কেউ পশু জবাই করে দুস্থদের মধ্যে দান করেছেন। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে দলের নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং নেত্রীকে সুস্থ ও দীর্ঘজীবী কামনা করেছেন।