খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর। মুক্তিপাগল বাঙালি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কামান-গোলাসহ মারণাস্ত্রের সামনে নিজের যা কিছু ছিল তা নিয়ে বাঙালির মুক্তিসেনাদের সম্মুখযুদ্ধ দেখেই বিস্মিত হয়ে যায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ। বিশ্বরাজনীতির মাঠে ধীরে ধীরে বন্ধুহীন হয়ে পড়ে পাকিস্তান।
ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালির সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাজয়ের কারণে পাকিস্তানি হানাদারদের পায়ের তলা থেকে মাটিও সরতে থাকে। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আক্রমণে তারা পর্যুদস্ত হয়। ইয়াহিয়া বুঝতে পারেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এখন সময়ের বিষয় মাত্র। পাকিস্তান পরিস্থিতি বুঝে কূটনৈতিক লড়াই শুরু করে।
পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা মার্কিন সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। পাকিস্তানকে রক্ষায় সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া যায়। একাত্তরের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারসহ অন্যান্য বিষয় উপস্থাপন করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ সদস্যের মধ্যে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পোল্যান্ড প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ১০টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, আর ব্রিটেন ও ফ্রান্স বিরত থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো প্রদান করায় প্রস্তাব পাশ হয় না। পাকিস্তানের শেষ প্রত্যাশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও পাকিস্তান হেরে যায়।
অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভারতীয় হামলা প্রতিরোধে প্রতিরক্ষা তহবিলে সবাইকে দান করার আহ্বান জানান। পাকিস্তানি সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত ৫৫ বছরের কম বয়সি মেজর পর্যন্ত সকল সৈন্যকে নিকটস্থ রিক্রুটিং অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বেতারে ঘোষণা করেন, বাঙালির জন্মভূমি আদায়ের লড়াইকে আড়াল করতে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রেই বাঙালিকে দমন করা যায়নি। মাতৃভূমি মুক্ত করতে তারা প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যায়। একদিকে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ, অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণ। পাকিস্তানি হানাদাররা বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে।
খবরওয়ালা /এসএস