খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ‘পোষ্য কোটা’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘পোষ্য কোটা বাতিল আন্দোলন, ঢাবি’ ব্যানারে একটি প্ল্যাটফর্ম উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তিন ঘণ্টার এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ধীরে ধীরে রূপ নেয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সুযোগের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে।
অবস্থানকারীরা নানা স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন—‘বাপের জোরে সিট নয়, মেধার জোরে সিট চাই’, ‘পোষ্য কোটা রয়ে গেল, ডাকসু কী করে’, ‘করদাতার অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়, সুবিধা শুধু পোষ্যের কেন?’—এসব স্লোগান现场কে আন্দোলনমুখর করে তোলে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পোষ্য কোটা নামক বিশেষ সুবিধা প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুচিত করে এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মো. রাকিব বলেন, “আমরা ডাকসু, সব হল সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্বারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা চাই, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক।” তিনি আরও বলেন, “করদাতাদের অর্থে পরিচালিত দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার বিশেষ সুবিধা থাকা মানে বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া। আমরা চাই একটি সমতা ভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা।”
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে, পোষ্য কোটা মূলত বিভিন্ন কর্মচারীর সন্তানদের বিশেষ সুবিধা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মেধার বিবেচনায় যারা আসলেই যোগ্য, তারা সুযোগ হারায়। এ কারণেই আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৫–২৬ সালে যেন একটি শিক্ষার্থীও পোষ্য কোটার মাধ্যমে ভর্তি হতে না পারে—এই দাবি তারা দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি জটিল এবং দীর্ঘদিনের নীতিমালার অংশ হওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন সম্ভব নয়। এদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, নীতিমালা জটিল হলেও পরিবর্তনের দায়িত্ব প্রশাসনেরই।
অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন পোষ্য কোটা বাতিল করা হলে প্রতিযোগিতা হবে আরও স্বচ্ছ, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাই হওয়া উচিত একমাত্র ভিত্তি—এই বার্তাই আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
অবস্থান শেষে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন—দাবি পূরণ না হলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি, এমনকি অনশন পর্যন্ত যাওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।