খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সম্প্রতি একটি ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও–পোস্টে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের প্রবেশপথে এমনভাবে গোলাম আযমের ছবি টাঙানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকতে গেলে সেই ছবির ওপর পা ফেলতে বাধ্য হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
গোলাম আযম বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি নাম। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। সামাজিকভাবে তিনি যুদ্ধাপরাধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তাঁর ছবির ওপর পা রাখাকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে একধরনের শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো ব্যক্তি যতই বিতর্কিত হন না কেন, তাঁর ছবি এভাবে টাঙানো শালীনতার বাইরে পড়ে এবং শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ফলে ঘটনাটি দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দিয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন, শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে মতামত জানাতে শুরু করেন। কিছু শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অবস্থানের প্রতীক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, প্রতিবাদের আরও গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষামূলক উপায় থাকা উচিত।
নিচে প্রতিক্রিয়ার একটি সারাংশ টেবিলে দেওয়া হলো:
| শ্রেণি | মতামতের ধরন | সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|---|
| সাধারণ শিক্ষার্থী | সমর্থন | যুদ্ধাপরাধের প্রতীক হিসেবে ছবির ওপর পা রাখা প্রতীকী প্রতিবাদ |
| শিক্ষক | আপত্তি | শিক্ষাঙ্গনে অবমাননার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা উচিত নয় |
| ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টরা | মিশ্র প্রতিক্রিয়া | কেউ সমর্থন করেছে, কেউ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে |
| সাধারণ সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী | সমালোচনা বেশি | এমন কাজকে অনেকেই অশিক্ষিত ও অরুচিকর বলেছেন |
YouTube, Facebook ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি লাখো ভিউ পায়। কমেন্ট সেকশনে বিভক্ত মতামত উঠে আসে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘মানসিক স্বস্তি’ বলে দাবি করেছেন, আবার কিছু ব্যবহারকারী বলেন—যে দেশ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়, সেখানে যুদ্ধাপরাধীর প্রতি শূন্য সহনশীলতা দেখানো স্বাভাবিক।
অন্যদিকে বিরোধী মতামতকারীরা বলেন, সভ্য সমাজে ঘৃণার রাজনীতি দিয়ে শিক্ষানবীশরা কোনো ইতিবাচক শিক্ষা পায় না। বরং ইতিহাস শেখানো উচিত যুক্তি, তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রমতে, হল প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ যেহেতু প্রতীকী কর্মকাণ্ডের কারণে সহজেই উত্তপ্ত হতে পারে, তাই কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমাজে এখনও কতটা গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধ এবং এর বিচার দেশের জনমানসে এমনভাবে স্থায়ী বসতি গেড়েছে যে এ ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদও দ্রুত জাতীয় বিতর্কের রূপ নেয়।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ—তা বৈধই হোক বা আপত্তিকর—সামাজিকমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে জনমতের ঢেউ তোলে। ফলে শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো কর্মকাণ্ড এখন জাতীয় আলোচনার অংশে পরিণত হয় খুব সহজেই।