খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে একেবারেই কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কূটনীতির মাধ্যমে হোক বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হোক—মস্কো নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবে।
বুধবার রাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সভায় পুতিন এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি ইউক্রেন বাস্তবমুখী আলোচনায় না আসে, তাহলে রাশিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সরকারগুলোকে দায়ী করেন, যাদের নীতিগত ভুলের কারণে এই যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
পুতিন ইউরোপীয় নেতাদের নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইউরোপের ছোট্ট দেশগুলো আমাদের পতন থেকে স্বার্থবান হওয়ার আশা করেছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে, মার্কিন কর্মকর্তারা বার্লিনে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত ৯০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়েছে। কিন্তু মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই ইস্যু—ভূখণ্ড ছাড় এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।
পুতিন বারবার দাবি করছেন, ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে থাকা উচিত। লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের প্রায় সব অংশ বর্তমানে রুশ বাহিনীর দখলে আছে। তবে কিয়েভ সেগুলো ছাড়তে নারাজ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জনগণের অনুমোদন ছাড়া এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
বার্লিন আলোচনায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ইউক্রেনের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি
ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন
যুদ্ধের পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তবে এসব প্রস্তাব পুতিন গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে, জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, এবং মস্কোকে যুদ্ধের ‘অর্থহীনতা’ বোঝানো জরুরি। তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, “রাশিয়া বারবার যুদ্ধ আরও এগিয়ে নিতে চাচ্ছে। আমরা সমস্ত মিত্রকে নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রাশিয়ার লক্ষ্য | যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জন |
| আলোচনার অগ্রগতি | শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত ৯০% সমাধান, কিছু ইস্যু অমীমাংসিত |
| প্রধান ইস্যু | দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র |
| কিয়েভের অবস্থান | জনগণের অনুমোদন ছাড়া কোনো অঞ্চল ছাড়বে না |
| নিরাপত্তা প্রস্তাব | সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি, ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা |
| ইউক্রেনের বার্তা | যুদ্ধ ‘অর্থহীন’, মস্কোকে থামাতে মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন |