খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, যখন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে অর্চনা সুরিন (২৭) নামে ওই নারীকে গ্রহণ করে।
বিজিবি ২৯ ব্যাটালিয়নের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্চনা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আটক হন। পরে বিএসএফের আহ্বানে পিলার ২৯৯/১ এস এর কাছে বিজিবি উপস্থিত হয়ে পতাকা বৈঠকে তাকে হস্তান্তর গ্রহণ করে। বৈঠকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করার পর বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তাকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে অর্চনা সুরিন জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় গার্মেন্টস শিল্পে চাকরি করতেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক দিপংকরের পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দিপংকরের বিয়ের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার আশ্বাসে, সুরিন ১২ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং দিপংকরের বাড়িতে যান। তবে দিপংকরের পরিবার তাদের বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে ১৪ ডিসেম্বর পতিরাম থানা পুলিশ তাকে আটক করে। অবশেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাকে নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
বিজিবি ফুলবাড়ী ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার নিশ্চিত করেছেন, অর্চনা সুরিনকে গ্রহণের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ।
এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে ফুটে ওঠে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া প্রেমিকের প্রলোভনে সুরিন সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন, যা তার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ প্রচেষ্টা এবং সতর্ক পদক্ষেপের মাধ্যমে নারী নিরাপদে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়।
এ ঘটনার মাধ্যমে সীমান্তে অননুমোদিত প্রবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা মিলেছে। বিজিবি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।