খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহী মহানগরীতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটার সময় একটি অপ্রত্যাশিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির রহস্যজনক মৃত্যুর পর স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শহরের কুমারপাড়ার মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি রাত সাড়ে বারোটা থেকে শুরু হয়ে ভোর চারটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
বিক্ষোভের প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। জুলাই মঞ্চ ও এনএসিপির নেতাকর্মীরা সেসব স্থানে সমবেত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের মূল স্লোগান ছিল, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘হাদি ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, এবং ‘রুখে দাও জনগণ, ভারতীয় আগ্রাসন’। স্লোগানগুলোতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে আন্দোলনটি কেবল স্থানীয় প্রশাসনিক বিরোধ নয়, বরং তা জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গভীর প্রভাব ফেলছে।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, “রাজশাহীবাসী ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আবার জুলাই নামাতে হবে। গুঁড়িয়ে দিবো আওয়ামী দূর্গ। সবাই আলুপট্টি আওয়ামী অফিসের সামনে চলে আসেন এখনই।” এই আহ্বান পরবর্তীতে সাড়া ফেলে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করে এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী শিক্ষার্থীর ব্যানার নিয়ে যোগদান করে। মিছিলটি সরাসরি মহানগর আওয়ামী লীগের অফিসের দিকে যায় এবং বুলডোজারের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও, প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ দমন করা সম্ভব হয়নি।