খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে পৌষ ১৪৩২ | ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে। লাঠি, লোহার রড ও বটি-দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় মো. হাছান উদ্দিন মারাত্মকভাবে আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ এক লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লুট করে নেয় এবং মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
আহত মো. হাছান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ভূমিহীন মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এবং এতে একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে এই নৃশংস হামলা ঘটিয়েছে।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত তিনজন হলেন মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং হান্নান মাসউদের পক্ষে এলাকায় প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, এই হামলার ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।