খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে পৌঁছায়। সেখানে আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল ১০টার পর হাসপাতালের মর্গ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে ব্যারিকেড দিয়ে, নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে প্রবেশপথ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শরিফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের আশপাশে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ—সবাই তাঁকে একনজর দেখার ও জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকের চোখে-মুখে ছিল গভীর শোক আর ক্ষোভের ছাপ।
গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহাদ হোসাইন বলেন, হাদি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের কণ্ঠস্বর। যেসব কথা আমরা বলতে পারতাম না, তিনি সাহস করে সেগুলো বলতেন। তাঁর শিক্ষা, সততা আর আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা দিত। আজ মনে হচ্ছে, সেই কণ্ঠস্বর হঠাৎ করেই থেমে গেল। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ গতকাল শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়। আজ শনিবার বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে বলে পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শরিফ ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আজ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সেখানেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এটি এক গভীর শোকের অধ্যায় হয়ে রইল।