খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ), সম্প্রতি দেশে গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হওয়া ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছে। এমএসএফের মতে, সরকারের নীরবতা ও উদাসীন মনোভাবই কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিরাপদভাবে দমনাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে সমাজে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি করছে।
ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল এর স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এমএসএফ জোর দিয়ে বলেছে, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা যে কোনো সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই সহিংস ঘটনার দায়ীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।
উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায়, যখন প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় সাংবাদিকরা ভয় ও আতঙ্কে পড়ে যান, কিছুজনকে জীবনের নিরাপত্তার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য হতে হয়। একই সময়ে নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবিরকেও হয়রানির শিকার হতে হয়। এমএসএফ জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে প্রথম আলোর অফিসে একই ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে, যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।
সংগঠনের আরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিও হামলার শিকার হয়েছে। একই দিনে ছায়ান্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়, এবং শুক্রবার রাতে উদীচী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এমএসএফ সতর্ক করে বলেছে, সরকারের নীরবতা ও দায়িত্বহীনতা “দলবদ্ধ দুষ্কৃতিকারীদের” স্বাধীনভাবে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিয়েছে, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত মতানৈক্য থাকলেও তা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা গণমাধ্যম স্বাধীনতা, মুক্ত মতপ্রকাশ এবং স্বাধীন চিন্তাধারার ওপর সরাসরি আক্রমণ। এমএসএফ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা দেশের গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থার জন্য ভীতিকর সংকেত প্রেরণ করে। যদিও সরকারিভাবে মিডিয়ার স্বাধীনতার গুরুত্ব স্বীকার করা হচ্ছে, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা জনগণের কাছে সরকারের কার্যকারিতা ও ন্যায্যতার উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।