খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জান্নাত হোসেন (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, তার মৃত্যু পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাত হোসেন ওই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকাল বেলায় তার প্রতিবেশী দুই ভাই—তারেক ও রিয়াদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়া থামানোর উদ্দেশ্যে তারেকের মা তাসলিমা বেগম জান্নাত হোসেনকে ডেকে আনেন।
দুর্ভাগ্যবশত, দুই ভাইয়ের হাতে ধারালো রামদা থাকায় তারা জান্নাতকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেছেন, “আমার ছেলে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তাসলিমা এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি পেছন পেছন যাই। ঘরে ঢোকার আগেই ওরা দা দিয়ে আমার ছেলেকে কোপাতে শুরু করে। আমার ছেলে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি এই শোক কীভাবে সহ্য করব?”
নিহতের বড় ভাই রাজু বলেন, “বাড়ির সীমানা নিয়ে আগেই ওদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল। তারা জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখল করে ঘর তুলেছে। আমার ভাইকে কুপানোর সময় তারা কাউকেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি।”
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারিয়া মোস্তারি জানান, সকাল ১১টার দিকে জান্নাতকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | জান্নাত হোসেন |
| বয়স | ২৭ বছর |
| ঘটনার তারিখ | ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| ঘটনা স্থান | নয়ানগর গ্রাম, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ |
| হামলাকারী | প্রতিবেশী দুই ভাই (তারেক ও রিয়াদ) |
| মায়ের নাম | জাহানারা বেগম |
| থানার কর্মকর্তা | ওসি মো. হাসান আলী |
| হাসপাতালে মৃত ঘোষণা | হামদর্দ জেনারেল হাসপাতাল, সকাল ১১টা |
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং নিহতের পরিবারকে সহায়তা করছে।