আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকেই এক অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন ভারতীয় তরুণ স্পিনার মানব সুথার। বাঁহাতি এই স্পিন বোলার নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেই ভেঙে দিয়েছেন ৪৭ বছর পুরোনো একটি দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক যোগ করেছে।
নিউ চণ্ডীগড় টেস্টে মানব সুথারের রেকর্ড গড়া বোলিং
নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় দলে অভিষেক হয় মানব সুথারের। ম্যাচটিতে তিনি মাত্র ৩৩ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে তিনি আফগান শিবিরের ৩টি উইকেট তুলে নেন এবং পরবর্তী দিন সকালে আরও ৩টি উইকেট শিকার করে সফরকারী দলের ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়ে দেন।
এই অসাধারণ স্পেলের মাধ্যমে ভারতের বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্ট অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের (ইনিংসে সেরা ইকোনমি ও রান বিবেচনায়) রেকর্ডটি এখন মানব সুথারের দখলে। এর আগে দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে এই রেকর্ডটি ছিল ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার দিলিপ দোশির। ১৯৭৯ সালে চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে ১০৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন দিলিপ দোশি। দীর্ঘ সময় পর সুথার উইকেট সংখ্যায় দিলিপ দোশিকে ছাড়াতে না পারলেও, মাত্র ৩৩ রান দেওয়ার কারণে রান খরচের দিক থেকে তাকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়েন।
টেস্ট অভিষেকে ভারতীয় বোলারদের কিছু ঐতিহাসিক কীর্তি
ভারতের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অভিষেকে সেরা বোলিং স্পেলের তালিকায় মানব সুথারের চেয়ে ওপরে রয়েছেন কেবল নরেন্দ্রা হিরওয়ানি। ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬১ রানে ৮ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন হিরওয়ানি। ম্যাচে মোট ১৬ উইকেট নেওয়ার সেই কীর্তিটি এখনও পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
টেস্ট অভিষেকে ভারতীয় বোলারদের স্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্সের তুলনামূলক চিত্র নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রিকেটারের নাম | প্রতিপক্ষ ও সাল | বোলিং ফিগার (ইনিংস/ম্যাচ) | রেকর্ডের ধরন ও বিশেষত্ব |
| নরেন্দ্রা হিরওয়ানি | ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯৮৮) | ১৬/১৩৬ (ম্যাচে) | টেস্ট অভিষেকে বিশ্বসেরা বোলিং রেকর্ড। |
| দিলিপ দোশি | অস্ট্রেলিয়া (১৯৭৯) | ৬/১০৩ (ইনিংসে) | ১৯৭৯ থেকে দীর্ঘ ৪৭ বছর ভারতের বাঁহাতিদের মধ্যে অভিষেকে সেরা। |
| মানব সুথার | আফগানিস্তান (২০২৬) | ৬/৩৩ (ইনিংসে) | দিলিপ দোশির ৪৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে ভারতীয় বাঁহাতিদের মধ্যে অভিষেকে সেরা। |
অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ম্যাচসেরার অনন্য স্বীকৃতি
শুধু এক ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারই নয়, গোটা ম্যাচ জুড়েই মানব সুথারের অবদান ছিল প্রশংসনীয়। বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি মোট ৭টি উইকেট লাভ করেন। এর পাশাপাশি লোয়ার-অর্ডারে ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে ২৮ রান সংগ্রহ করেন। এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ অভিষেক ম্যাচেই তিনি ‘ম্যাচসেরা’ (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন।
অভিষেক টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া ভারতের নবম ক্রিকেটার এবং তৃতীয় বোলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন মানব সুথার। তার আগে বোলার হিসেবে ভারতের হয়ে এই গৌরব অর্জন করেছিলেন অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং পেসার রুদ্রপ্রতাপ সিং (আরপি সিং)।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও ভারতের বিশাল জয়
নিউ চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে সফরকারী আফগানিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ভারত ৮ উইকেটে ৫৬৪ রানের এক বিশাল পাহাড়সম স্কোর গড়ে নিজেদের ইনিংস ঘোষণা করে।
জবাবে ভারতের স্পিন ও পেস আক্রমণের মুখে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান দল। নিজেদের প্রথম ইনিংসে তারা মাত্র ১৫২ রানে অলআউট হয় এবং ফলো-অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ১১২ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে ভারত ইনিংস ও ৩০০ রানের এক বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটিতে জয়লাভ করে। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে প্রধান কারিগর হিসেবে অবদান রাখেন রেকর্ড গড়া অভিষিক্ত বোলার মানব সুথার।



